তারিখ: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার
স্থান: মহাস্থানগড়, বগুড়া
সময়: সকাল ৭টা – সন্ধ্যা ৬টা
আজকের দিনটি আমার জীবনে এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমরা সবাই মিলে রওনা দিলাম বগুড়ার মহাস্থানগড়ের উদ্দেশ্যে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান, যা প্রায় ২,৫০০ বছরের পুরনো। বাসে বসে যেতে যেতে আমি মহাস্থানগড় সম্পর্কে পড়ে নিচ্ছিলাম — এটি প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ।
সকাল ১০টার দিকে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাই। বিশাল প্রাচীর, খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, এবং লাল মাটির ঢিবিগুলো দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই। গাইড আমাদের বললেন, এই স্থানেই একসময় রাজা বল্লাল সেনের রাজত্ব ছিল, এবং এখানে বহু রাজা-বাদশাহর পায়ের চিহ্ন রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে গোকুল মেধ নামের স্থানটি। এটি ছিল একটি বৌদ্ধ স্তূপ, যেখানে অনেক কক্ষবিশিষ্ট ইটের কাঠামো দেখা যায়। আমরা মিউজিয়ামেও গিয়েছিলাম, যেখানে অনেক প্রাচীন মুদ্রা, পাত্র, মূর্তি ও অস্ত্র সংরক্ষিত আছে। এসব দেখে মনে হচ্ছিল, আমি যেন ইতিহাসের পাতার ভেতরে হাঁটছি।
দুপুরে ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে আবার কিছু জায়গা ঘুরে দেখলাম। বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিমে ঢলে পড়ছিল, তখন প্রাচীন প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে আমি ভাবছিলাম— কালের সাক্ষী হয়ে এই স্থান কত ইতিহাস দেখেছে!
সন্ধ্যায় আমরা ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা দিলাম। সারাদিনের ক্লান্তি থাকলেও মনে ছিল অপার আনন্দ ও কৌতূহল। আজকের এই ভ্রমণ আমাকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে সাহায্য করেছে।
মহাস্থানগড় ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতা আমার মনে ইতিহাস, গর্ব ও জ্ঞানচর্চার এক নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার ইচ্ছা রইল।
Related Question
View All১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার
রাত ১০টা
ঢাকা
আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পরে বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, বসন্তের প্রকৃতি আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের কলেজে প্রতিবছরই বসন্তবরণে একটি অনুষ্ঠান হয়। আজ সকালে আমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছিলাম। কলেজের মাঠে একটি মন্ঞ্চ বানিয়ে সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গান, কবিতা, নাচ ইত্যাদি পরিবেশনার সঙ্গে চলছিল বসন্ত বন্দনা। একজন গেয়েছিল লগ্নজিতার 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আহা আজি-এ বসন্তে' গানটির পরিবেশনা। আমার ফন্ধু সাদিয়া 'ফুলে ফুলে ঢোলে, ঢোলে...' গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছিল। অনুষ্ঠান শেষে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সংগীত পরিবেশন করেছিল শিল্পী অর্ণব। কনসার্ট শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি তার বক্তব্যে বসন্তবরণের সঙ্গে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি। আজ সারা দিন খুব আনন্দে কেটেছে, আবার কবে বসন্ত আসবে তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।
পদ্মাসেতু দর্শনের অনুভূতি
তারিখঃ ২৬ শে জুন, ২০২৫
সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ টা
স্থানঃ ঢাকা
চমৎকার একটি দিন কাটালাম আজ। কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে এই সেতু। পদ্মা সেতু প্রথম দেখাতেই মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশের তিন কোটিরও অধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে এই সেতুটির মাধ্যমে। দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর ফলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সারকথা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পদ্মা সেতু সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক অজানা আনন্দে মন পুলকিত হয়ে আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!